করোনা ভাইরাসের ওষুধ ডেক্সামেথাসোন কি এবং কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে করোনা ভাইরাসের ওষুধ ডেক্সামেথাসোন কে বিভিন্ন দেশে মারাত্নক ভাবে অসুস্থ কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশেও এর প্রয়োগ শুরু হয়েছে । অনেকে ডাক্তারই বলছেন এটি মারাত্নক ভাবে অসুস্থ কোভিড-১৯ রোগীর জন্য খুবই কার্যকর। তবে অল্প অসুস্থ রোগীদের এটির কোন দরকার নেই। তাছাড়া মাত্রা অতিরিক্ত বা নিয়ম না জেনে ব্যবহারে নানাবিধ পার্শপ্রতিক্রিয়া আছে । হাতে ৫ মিনিট সময় থাকলে চলুন জেনে নিই এই অসুধের বিস্তারিত ।

ডেক্সামেথাসোন কি?

ডেক্সামেথাসোন ১৯৫৭ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯৫৮ সালে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন কর্তৃক চিকিত্সার কাজে ব্যবহারের অনুমতি পায়। তখন থেকেই ডেক্সামেথাসোন একটি বহুল ব্যবহৃত স্টেরয়েড ঔষুধ যা মানুষের শরীরের নানা রকম প্রদাহ কমাতে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়াও এটি বিভিন্ন ধরনের বাতের ব্যাথা এবং হাঁপানি সহ বেশ কিছু রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয় ।

ডেক্সামেথাসোন কিভাবে কাজ করে?

ডেক্সামেথাসোন খাওার ফলে মানুষের শরীরে প্রদাহনাশক হরমনের উৎপাদন অনেক গুণ বেড়ে যায় এবং এই হরমনই শরীরের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে । মানুষের শরীর নিজে থেকেই যে কোন সংক্রমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে । অনেক সময় সংক্রমনের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ এতটাই বেশী হয় যে এর ফলে শরীরের ভালো কোষগুলোও আক্রমণের শিকার হয়। যারফলে অনেক সময় মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ডেক্সামেথাসোন খাওার ফলে এই প্রতিক্রিয়া অনেকটা কমে যায়। এটি মারাত্নক ভাবে অসুস্থ রোগীদের দেওয়া হয় যারা নিজে থেকে শাস-প্রশ্বাস নিতে অক্ষম হয়ে গেছে অর্থাৎ বাইরে থেকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে, তাদের জন্য এটি খুবই কার্যকর। তবে অল্প অসুস্থ রোগীদের এটির কোন দরকার নেই। বরং তাদের ক্ষেত্রে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে শরীরের অনেক ক্ষতি করতে পারে।

ডেক্সামেথাসোন কতটা কার্যকর?

হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যে সকল রোগী কৃত্তিম ভাবে শাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে বেঁচে আছেন তাদের মধ্যে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন বেঁচে যান । কিন্তু যারা হালকা অসুস্থ তাদের ক্ষেত্রে ডেক্সামেথাসোনের কোন সফলতা নেই। ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডে একটি গবেষণায় ২১ হাজার রোগীকে ১০ দিন ধরে প্রতিদিন ৬ মিলিগ্রাম করে ডেক্সামেথাসোন প্রয়োগ করা হয়। তবে গবেষণা থেকে এটি পরিস্কার যে ডেক্সামেথাসোনের সাথে আরো কিছু ওষুধ প্রয়োগ করে কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুর ঝুকি আরো কমিয়ে আনা সম্ভব । তবে ডেক্সামেথাসোন শুধু মাত্র পুর্ন বয়স্ক মানুষের দেয়া যাবে, যারা গর্ভবতি এবং যারা শিশুকে দুধ পান করাচ্ছেন তাদের এই ওষুধ দেয়া যাবে না ।

ডেক্সামেথাসোন কতটা সহজলভ্য?

এটি খুবই সহজলভ্য একটি ওষুধ এবং বাজারে ডেক্সামেথাসোন পর্যাপ্ত পরিমানে মজুদ আছে। এটির দাম এত কম যে ১০ দিন একজন রোগীর চিকিৎসার জন্য মাত্র ৫০০ – ৬০০ টাকার মত খরচ হয় । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে ডেক্সামেথাসোন ওষুধটি চাইলে যে কোন কোম্পানি বানাতে পারবে, এক্ষেত্রে আইনি কোন ঝামেলা নেই । সারা পৃথিবীতে ওষুধটির সরবারাহ রয়েছে।

আর কি কি অসুখে ডেক্সামেথাসোন ব্যবহার করা হয়?

যে সকল রোগের ক্ষেত্রে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অতিরিক্ত সক্রিয় থাকে যেমন অ্যাজমা বা খুব বেশি শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জিজনিত মারাত্মক কোন প্রতিক্রিয়া, যে সব ক্ষেত্রে ডেক্সামেথাসোন ব্যবহার করা হয় । এছাড়াও বিভিন্ন বাতের চিকিৎসায় (মেডিকেলের ভাষায় আর্থরাইটিস) ডেক্সামেথাসোনের বহুল ব্যবহার রয়েছে ।

ডেক্সামেথাসোনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি?

ডেক্সামেথাসোনের বেশকিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে কমন যেগুলো তা হল ঘুম না আসা (অনিদ্রা), অনেক বেশি বিষণ্ণতা (অ্যাংজাইটি), মোটা হয়ে যাওয়া (স্থূলতা) এবং এমন কি শরীরের বিভিন্ন অংশে পানি জমতে থাকা । এছাড়াও ডেক্সামেথাসোনের আরো বেশ কিছু মারাত্তক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে যেমন: চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়া। তবে করোনা রোগীদের ডাক্তাররা খুব অল্প পরিমাণে দিয়ে থাকেন যাতে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না হয় ।

এই করোনা ভাইরাসের ওষুধ ডেক্সামেথাসোন সহজলভ্য হওয়ার কারনে খুব সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে বাংলাদেশের অনেকই ওষুধটি কিনে বাসায় রেখে দিচ্ছেন। কিন্তু আইইডিসিআর এর একজন গবেষক বিবিসি কে দেয়া বিবৃতিতে বলেছেন যে এটি নিজেদের থেকে কিনে বাসায় রাখার মত কোন ওষুধ না । তার কারন ডেক্সামেথাসোন করোনা পজেটিভ কোন রোগীর বাড়ীতে ব্যবহার করার মত ওষুধ না। এটি মারাত্নক ভাবে অসুস্থ রোগীদের দেওয়া হয় যারা নিজে থেকে শাস-প্রশ্বাস নিতে অক্ষম হয়ে গেছে অর্থাৎ বাইরে থেকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে, তাদের জন্য এটি শুধু মাত্র তাদের জন্য কার্যকর। অল্প অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে শরীরের অনেক ক্ষতি করতে পারে।

>>  করোনা ভাইরাস : যেসব ভুয়া স্বাস্থ্য পরামর্শ এড়িয়ে চলবেন

 

specialist doctors BD

Leave a Reply

Close Menu